Placeholder canvas
কলকাতা বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |
K:T:V Clock

চাঁদের আরও কাছে চন্দ্রযান ৩, কক্ষপথে ঢুকে পড়বে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই 

Updated : 5 Aug, 2023 11:08 PM
AE: Samrat Saha
VO: Priti Saha
Edit: Silpika Chatterjee

বেঙ্গালুরু: শ্রীহরিকোটার লঞ্চপ্যাড থেকে চন্দ্রযান ৩ (Chandrayaan 3) উৎক্ষেপণ হয়েছে ২২ দিন হতে চলল। এবার চাঁদের আরও কাছে পৌঁছে গেল সে। দু’দিন আগেই পৃথিবীর অভিকর্ষজ বলের নাগপাশ কাটিয়ে চাঁদের রাস্তায় পাড়ি দিয়েছিল ইসরোর (ISRO) মহাকাশযান। এবার পরবর্তী পদক্ষেপ আর তা হল চাঁদের কক্ষপথে ঢুকে পড়া। 

আগামী ২৪ ঘণ্টায় বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কম্যান্ড নেটওয়ার্কের সাহায্যে জটিল প্রক্রিয়ায় চন্দ্রযান মডিউলকে চাঁদের কক্ষপথে বসানো হবে। মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়ার নাম লুনার অরবিট ইনসারশন (Lunar Orbit Insertion)। এরপরে চাঁদের অভিকর্ষজ বলের আওতায় চলে আসবে চন্দ্রযান-৩। প্রথমে উপবৃত্তাকারে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে সেটি। এভাবে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করতে করতে ক্রমশ চন্দ্রপৃষ্ঠের কাছে যাবে। দূরত্ব যখন ১০০ কিমি সে সময় কক্ষপথ আর উপবৃত্তাকার থাকবে না, বৃত্তাকার হয়ে যাবে। অবশেষে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে সফট ল্যান্ডিং করবে চন্দ্রযান ৩। 

প্রসঙ্গত, অ্যাপোলো-১১ (Apollo-11) সহ একাধিক পূর্ববর্তী মিশনে চাঁদে পৌঁছতে চারদিন লেগেছিল, কিন্তু ইসরোর যানের লাগবে ৪০ দিন। কেন এত দেরি? এর উত্তর নিহিত রয়েছে ইসরোর বেছে নেওয়া মহাকাশযানের গতিপথ এবং লঞ্চ ভেহিকলের সীমাবদ্ধতায়। অ্যাপোলো-১১ সহ সবক’টি অ্যাপোলো মিশনে সরাসরি গতিপথ ব্যবহার করেছিল যাকে মহাকাশ বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন’ (Translunar Injection)। শক্তিশালী স্যাটার্ন ৫ (Saturn-5) মহাকাশযান অ্যাপোলো এয়ারক্রাফটদের পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে দিয়েছিল এবং সেখান থেকে একটি ইঞ্জিনের জ্বলনের সাহায্যে তাকে সরাসরি চাঁদের অভিমুখে পৌঁছে দেয়। এই উপায়ে কয়েকদিনেই চাঁদে পৌঁছে যায় নাসার যান।     

কিন্তু চন্দ্রযান-৩-এর গতিপথ অন্যরকম। ইসরোর জিওসিনক্রোনাস লঞ্চ ভেহিকল মার্ক-৩ স্যাটার্ন-৫-এর মতো শক্তিশালী নয়, তার পেলোড ক্ষমতাও কম। সেই সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বুঝেই চন্দ্রযান-৩-কে ক্রমান্বয়িক গতিপথে ছাড়া হয়। প্রথমে পৃথিবীকে একাধিকবার প্রদক্ষিণ করে এবং একাধিক ইঞ্জিনের জ্বলনের সাহায্যে তার গতিবেগ বাড়ানো হয় এবং চাঁদের অভিমুখে পাঠানো হয়। এই পদ্ধতিতে লঞ্চ ভেহিকল কম শক্তিশালী হলেও ক্ষতি নেই।