Placeholder canvas
কলকাতা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |
K:T:V Clock

Bayran Biswas | হাত ছেড়ে জোড়াফুল! তৃণমূলে বায়রন বিশ্বাস

Updated : 29 May, 2023 8:08 PM
AE: Hasibul Molla
VO: Soumi Ghosh
Edit: Monojit Malakar

ঘাটাল এবং মেদিনীপুর: কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন বায়রন বিশ্বাস। ঘাটালে অভিষেকের নবজোয়ার কর্মসূচিতে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন কংগ্রেসের টিকিটে জেতা এই বিধায়ক। বায়রনকে দলের পতাকা হাতে তুলে দেন খোদ অভিষেক, উত্তরীয় পরিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। মঙ্গলবার দুপুর ২টো ৪৭মিনিটে তৃণমূলের অফিসিয়াল ফেসবুক থেকে সেই পোস্ট করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে সাগরদিঘিতে উপনির্বাচন হয়েছিল। তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, কোনওভাবেই তৃণমূলে যোগ দেবেন না। বরং তৃণমূল বিধায়কদের তিনি কংগ্রেসে যোগ দেওয়াবেন। কিন্তু তিন মাসের মাথায় কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল সাগরদিঘি মডেল। বায়রনের তৃণমূলে যোগদানে বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস।

এদিকে যোগদানের পরই বায়রনকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে বায়রন সাগরদিঘিতে জিতেছেন। বায়রনকে তৃণমূলে স্বাগত। রামধনু জোটের নির্যাস শূন্য। কংগ্রেসের মতের সঙ্গে বায়রন একমত ছিলেন না। কংগ্রেস দিল্লিতে একসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলছে, কিন্তু বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলে বিজেপির সঙ্গে লড়ছে। আমি নবজোয়ার যাত্রায় থাকাকালীনই বায়রন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপরই এই ঘাটালের কর্মসূচিতে আজ তিনি যোগ দিলেন।’ যোগদানের পর বায়রন বলেন, ‘আমি কংগ্রেসের ভোটে জিতিনি। আমার জয়ের পিছনে কংগ্রেসের কোনও ভূমিকা ছিল না। জনগণের ভোটে আমি জিতেছি। এরপর যদি ফের ভোটে দাঁড়াতে হয় তাহলে প্রমাণ করে দেব আমি কংগ্রেসের ভোটে জিতিনি। অধীর চৌধুরী যতটা তৃণমূলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন, ততটা বিজেপির বিরুদ্ধে বলেন না।’ এদিকে বায়রন হাতছাড়া হতেই সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস। অধীর চৌধুরী বলেন, ‘মানুষের রায়কে পদাঘাত করে নির্বাচনের পর থেকেই চেষ্টা করছিল তৃণমূল। পরাজয় মেনে নিতে পারেনি ওরা। তাই সবরকমের চেষ্টা করেছেন দিদি আর খোকাবাবু।’

উল্লেখ্য, মার্চ মাসে উপনির্বাচনের আগে বায়রনের বিরুদ্ধে মহিলাঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে বায়রনের প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি তোলা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, একই দাবিতে মহিলা তৃণমূল নির্বাচন কমিশনেরও দ্বারস্থ হয়েছিল। জয়ের পরও বায়রনের শপথ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে শপথগ্রহণে দেরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছিল কংগ্রেস। বায়রনের সঙ্গে বিজেপির ‘সেটিং’ রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। 

তবে জয়ের পর থেকেই কংগ্রেসের স্থানীয় কোনও কর্মসূচিতে বায়রনের দেখা মিলছিল না। এ নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সময় অধীরের দাবি ছিল, ‘অসুস্থতার কারণে বায়রন কিছু দিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে থাকতে পারছেন না। সাম্প্রতিককালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বায়রনের দেখা করার সম্ভাবনা নিয়েও নানা জল্পনা চলছিল। অবশেষে সোমবার দুপুরে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে দাবি করলেন, ‘আমি বরাবর তৃণমূল করতাম। তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করেছি।’