Placeholder canvas
কলকাতা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |
K:T:V Clock

Sedition Law | রাষ্ট্রদ্রোহ আইন আরও কঠোর করার সুপারিশ আইন কমিশনের

Updated : 2 Jun, 2023 8:03 PM
AE: Hasibul Molla
VO: Priti Saha
Edit: Silpika Chatterjee

নয়াদিল্লি: ব্রিটিশ আমলের রাষ্ট্রদ্রোহ আইন (Sedition Law) আজকের দিনে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে গত বছরের মে মাসে প্রশ্ন তুলেছিল সু্প্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত তার রায়ে বলেছিল, যতদিন ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ এ ধারার বৈধতা নিয়ে পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া চলছে, ততদিন যেন কোনও রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই আইনে কারও বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলি স্বস্তির নির্দেশ ফেলেছিল। কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্য সরকার এই রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের দোহাই দিয়ে যার তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করছিল। ওই আইনেই এখনও বহু মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী, নেতা, সমাজকর্মী কারান্তরালে রয়েছেন। প্রায় বছর পাঁচেক ধরে তাঁরা জেল খাটছেন। 

দেশের শীর্ষ আদালত যখন রাষ্ট্রদ্রোহ আইন কার্যত তুলে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে, ঠিক তখনই জাতীয় আইন কমিশন (National Law Commission) তা বহাল রাখার কথা জানিয়েছে তাদের সুপারিশে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের বিভিন্ন ধারা আরও কঠোর করার সুপারিশ করেছে আইন কমিশন। তাদের মতে, এই আইন তুলে দিলে দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আগামিদিনে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়বে। কর্নাটক হাইকোর্টের (Karnataka High Court) অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ঋতুরাজ অবস্তির নেতৃত্বাধীন আইন কমিশনের সুপারিশ গত ২৪ মে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনলাল মেঘাওয়ালের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাতে এই আইনে শাস্তির বিধান আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এই আইনে সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করার প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। তাছাড়া আইনের ১২৪ এ ধারাকে সংশোধন করার সুপারিশও করা হয়েছে।

কমিশন বলছে, ১৯৬২ সালের কেদারনাথ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সমতা রেখে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে বদল আনা দরকার। প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। ওই আইন এখনও খারিজ হয়নি। তবে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এই আইনে কাউকে আপাতত গ্রেফতার করা হচ্ছে না। গত মাসে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ ব্যাপারে সরকার কোনও কিছু ঘোষণা করতে পারে। যদিও তা হয়নি। তবে সরকার আদালতে জানায়, আইন সংশোধন করার কাজ প্রায় শেষের পথে। এই পরিস্থিতিতেই আইন কমিশন তাদের সুপারিশে আইন রেখে দেওয়ার কথা জানাল।