Placeholder canvas
কলকাতা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |
K:T:V Clock

Bahanaga Bazar Station | অভিশপ্ত বাহানাগা বাজার, আর কোনও ট্রেন থামবে না এই স্টেশনে

Updated : 10 Jun, 2023 8:34 PM
AE: Abhijit Roy
VO: Priti Saha
Edit: Silpika Chatterjee

ভুবনেশ্বর: করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার (Coromandel Express Accident) পর থেকেই রাতারাতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে ওড়িশার বাহানগা বাজার স্টেশন (Bahanaga Bazar Station)। ২ জুনের অভিশপ্ত রাতের সাক্ষী ছিল এই বালেশ্বরের এই স্টেশন। ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল শালিমার চেন্নাই করমন্ডল এক্সপ্রেস। অভিশপ্ত এই স্টেশনে এবার ট্রেন (Train) চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। জানা গিয়েছে, বালেশ্বরের রেল দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্টেশনে এবার থেকে আর কোনও ট্রেন দাঁড়াবে না।

দক্ষিণ পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক আদিত্য কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, “সিবিআই ইতিমধ্যেই বাহানাগা বাজার স্টেশন সিল করে দিয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে লগ বুক, রিলে প্যানেল এবং অন্য সরঞ্জাম। রিলে ইন্টারলকিং সিস্টেম সিল করে দেওয়ার ফলে সিগন্যালিং পয়েন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিই আর রেলকর্মীদের পক্ষে অপারেট করা সম্ভব হচ্ছে না। আর তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও প্যাসেঞ্জার অথবা মালগাড়ি এই স্টেশনে থামবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত সিবিআই পরবর্তী নোটিশ দিচ্ছে, ততক্ষণ এই নির্দেশ জারি থাকবে।”

২ জুন শুক্রবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল শালিমার থেকে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস, হাওড়াগামী যশোবন্তপুর হামসফর এক্সপ্রেস এবং একটি মালগাড়ি। ঘটনায় ২৮৮ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১১০০-র বেশি মানুষ। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। উদ্ধারকাজে নেমেছিল বায়ুসেনা, এনডিআরএফের ৯টি টিম। হেলিকপ্টারের সাহায্যে চলছিল উদ্ধারকাজ। ট্রেনের দরজা ভেঙে,গ্যাস কাটারের সাহায্যে উদ্ধারকাজ চালানো চলছিল। ড্রোন উড়িয়ে, স্নিফার ডগ এনে চলছিল তল্লাশি। উদ্ধারকাজ জোরদার করতে মালদা ডিভিশনের ২২৪ জন আরপিএফ জওয়ানকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। এই ট্রেন দুর্ঘটনার পর রেলের তরফে খোলা হয় বিশেষ হেল্পলাইন। যাতে যাত্রীদের খোঁজখবর নিতে পারেন উদ্বিগ্ন পরিজনরা। 

২ জুন রেল দুর্ঘটনার পর থেকে ৫১ ঘণ্টা পর্যন্ত বাহানাগা বাজারে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। টানা কয়েকঘণ্টা ধরে চলে উদ্ধারকাজ। তারপর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। লাইনচ্যুত হয়ে যাওয়া রেলের ১৫টি বগি সরিয়ে রেললাইন পুনরায় চালু করা হয়। আড়াই দিনের মাথায় ফের পরিষেবা শুরু হয় বাহানাগা বাজার স্টেশনে। শুধু তাই নয়, এরপর ওই স্টেশন দিয়েই পার হয় চেন্নাই-শালিমার করমণ্ডল আপ এবং ডাউন ট্রেন।